- Get link
- X
- Other Apps
Featured Post
- Get link
- X
- Other Apps
আত্মার বিজ্ঞান (হার্ডকভার)
আল-কুরআনে ধ্যান, দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা
by খাজা ওসমান ফারুকী
আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধানে ‘আত্মার বিজ্ঞান’-এর প্রয়োজনীয়তা
TK. 500 TK. 375 You Save TK. 125 (25%)
অর্ডার করুন
আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধানে ‘আত্মার বিজ্ঞান’-এর প্রয়োজনীয়তা
আধ্যাত্মিকতা হলো আত্মার সন্ধান—‘আমি কে’ এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার যাত্রা। আধুনিক মানুষ এই প্রশ্নে আগ্রহী হলেও, আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সে হারিয়ে ফেলেছে তার আত্ম-পরিচয়ের গভীর চেতনা। ঠিক এইখানেই ‘আত্মার বিজ্ঞান’ বইটি হয়ে ওঠে এক আলোকবর্তিকা।
এটি এমন একটি প্রয়াস, যেখানে সুফি সাধনার অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক বিজ্ঞান—বিশেষত নিউরোসায়েন্স, মনোবিজ্ঞান ও কনশাসনেস স্টাডিজ—একত্র হয়ে আত্মার প্রকৃতি, পরিশুদ্ধি ও মহান স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন আলোয় তুলে ধরেছে।
‘আত্মার বিজ্ঞান’ আমাদের শেখায়—আধ্যাত্মিকতা কেবল বিশ্বাস নয়, অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির বিষয়। এটি যুক্তিসংগত, বিজ্ঞানসম্মত ও হৃদয়স্পর্শী। যারা সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা খুঁজছেন—তাদের জন্য এই বই শুধু একটি পথনির্দেশ নয়, বরং অন্তর্জগতে জেগে ওঠার একটি চাবিকাঠি।
পবিত্র কুরআন মাজিদ কেবল একটি ধর্মীয় বিধাননামা নয়; এটি এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক মহাজ্ঞানসম্ভার, যা মানুষকে তার আত্মিক অস্তিত্ব, জগতের রহস্য, ও স্রষ্টার সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক অন্বেষণে আমন্ত্রণ জানায়। এর প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি আলো—যা জ্ঞানের অন্ধকার কক্ষে সুর্যের মতো আলো দেয়, এবং আত্মাকে জাগিয়ে তোলে চিরন্তন সত্যের দিকে।
"আত্মার বিজ্ঞান" - মূলত একটি আহ্বান। এক অদৃশ্য কিন্তু গভীর সত্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরায়। এমন এক সত্য যা আমরা অনুভব করি, কিন্তু ব্যাখ্যা করতে পারি না; যে সত্য আমাদের মধ্যে বাস করে, কিন্তু যার পথ হারিয়ে ফেলি জীবনের কোলাহলে। এই বই সেই হারিয়ে যাওয়া পথের দিশা, সেই নীরব প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রয়াস, যা যুগে যুগে মানুষ করে আসছে—"আমি কে?" "কেন আমি এখানে?" "আমার আত্মা কোথা থেকে এসেছে?"
আধ্যাত্মিকতা, কুরআনের জ্ঞান, সুফি প্রজ্ঞা ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় এই বইটি।
এটি কেবল ধর্মীয় বা দার্শনিক আলোচনা নয়—এটি আত্মার বিজ্ঞান, যেখানে প্রতিটি অধ্যায় আমাদের হৃদয়, মন ও চেতনার গভীরে আলো জ্বালায়।
আমাদের নিয়ে যায় আত্মসমর্পণ ও প্রেমের পথ ধরে, যেখানে আত্মা নিজেকে হারায় পরম করুণাময় আল্লাহপাকের প্রেমে।
আল-কুরআন "হুদা", "নূর", "রুহ", "শিফা" এবং ফোরকান — এই সব নামেই নিজের পরিচয় দেয়। এর অর্থ, এটি কেবল নির্দেশিকা নয়, বরং একটি জীবন্ত আলো ও নিরাময়কারী আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি। যারা একে হৃদয় দিয়ে পড়ে ও বুঝে, তাদের জন্য কুরআন হয়ে ওঠে জ্ঞান ও ইলহামের উৎস। আত্মার বিজ্ঞান মূলত আল- কুরআনের অনুসন্ধান ও আধ্যাত্মিক যাত্রার মানচিত্র।
কুরআনের আয়াত যখন তফসীরের সীমা ছাড়িয়ে হৃদয়ে ধ্বনিত হয়, তখন পাঠক হয়ে ওঠে সাধক—যিনি খুঁজে ফেরেন তাওহিদের রূপ, নফসের প্রকৃতি, রুহের পরিচয়, ও মহান স্রষ্টার গোপন প্রেম।
আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি, তা কোনো এলোমেলো বা বিশৃঙ্খল জগৎ নয়। বরং এটি এক নিখুঁত ভারসাম্য ও নিয়মতান্ত্রিকতার অপূর্ব উদাহরণ। সূর্য ওঠে নির্দিষ্ট সময়ে, চাঁদ বাড়ে-কমে নিয়ম মেনে, রাত আসে দিনের পরে, ঋতুর পালাবদল ঘটে সময়মতো—এসব কিছুই এক সূক্ষ্ম সুষমার নিদর্শন।
কুরআন বারবার আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে চায় এই সুশৃঙ্খল মহাবিশ্বের দিকে।
“তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন, প্রতিটিই নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তিত হচ্ছে। তিনিই সমস্ত কিছু পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।” (সূরা রা’দ ১৩:২)
আত্মার বিজ্ঞান বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা এমনভাবে রচিত, যেন পাঠকের হৃদয়ে সূর্যের মতো এক নতুন আলোর উদয় ঘটবে। যারা এখনো তাদের আত্মাকে পুরোপুরি জানতে পারেননি, যারা জানেন না কিভাবে দেহ মন আত্মার ধ্যান করতে হয়, কিভাবে নিজেকে বোঝা যায়, কিংবা কিভাবে কুরআনের বাণীকে অন্তরের ভিতর জীবন্ত করা যায়—তাদের জন্য এই বই হবে এক নীরব আত্ম-জাগরণের বিপ্লব।
শেষ কথা—এই বইটি এক ধরণের mirror of the soul—আত্মার আয়না। আপনি যদি এতে তাকান, নিজেকে নতুনভাবে দেখবেন। এবং একদিন, হয়তো আপনি নিজের আত্মার নীরব ভাষা বুঝতে শিখবেন।
Comments
Post a Comment